বিশ্ব অর্থনীতি এই বছর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অপ্রত্যাশিতভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) তাদের সর্বশেষ বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রতিবেদনে এই তথ্য উপস্থাপন করেছে।
ওইসিডি বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন বাণিজ্য নীতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো রয়েছে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি, সমর্থনমূলক ম্যাক্রোইকোনমিক নীতি, বাস্তব আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি চাহিদাকে সমর্থন করছে।
ওইসিডি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ২.০ শতাংশ হিসেবে অনুমান করেছে, যা তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১.৩ শতাংশ হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, যা তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে ০.১ শতাংশ বেশি।
বিশ্ব অর্থনীতি মোট ৩.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে, যা গত বছরের ৩.৩ শতাংশের থেকে কম। পরের বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ২.৯ শতাংশে নেমে আসবে, কিন্তু ২০২৭ সালে আবার ৩.১ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার পরের বছর ১.৭ শতাংশে নেমে আসবে, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১.০ শতাংশে নেমে আসবে। উভয় অনুমানই তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো।
চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.০ শতাংশ হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, যা তাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের চেয়ে ০.১ শতাংশ বেশি।
ওইসিডি বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি এই বছর অপ্রত্যাশিতভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা হ্রাস পাবে, কারণ উচ্চ শুল্কের কারণে ব্যবসা ও ভোক্তাদের খরচ বাড়বে এবং উচ্চ ভূ-রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে প্রভাবিত করবে।
ওইসিডি বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৬ সালে আবার পুনরুদ্ধার করবে, কারণ উচ্চ শুল্কের প্রভাব কমে যাবে এবং আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত হবে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই পুনরুদ্ধার অব্যাহত রাখার জন্য, সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নীতিগত সংস্কার, বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রচার। এছাড়াও, সরকারগুলোকে অবশ্যই অর্থনৈতিক অসমতা ও বৈষম্য কমাতে কাজ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সকলের জন্য উপকারী হয়।
বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়, কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত যে সরকার, ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন দূরদর্শীতা, সহযোগিতা ও সুদূরপ্রসারী নীতি।



