ফেনীর সোনাগাজীতে রূপালী ব্যাংকের এক গ্রাহকের হিসাব থেকে সাড়ে ১৯ লাখ টাকা সরানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাদের টাকা সরানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে ব্যাংকের আমির উদ্দিন মুন্সিরহাট শাখায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহক আবুল বশরের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৩ হাজার টাকা খোয়া গেছে। তাঁর প্রবাসী ছেলে মনসুর আলমের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়েছে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ছোট ছেলে ইফতেখার আলমের অ্যাকাউন্ট থেকে সরানো হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা।
গ্রাহকের অজান্তেই এসব টাকা ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। ব্যাংক থেকে যোগাযোগ করা হলে আবুল বশর জানান, তিনি কোনো লেনদেন করেননি।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা শাখা ম্যানেজার দিদারুল আলম ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে দায়ী করেন। আবুল বশরের অভিযোগ, টাকা উদ্ধারের কথা বলে ব্যাংকের ম্যানেজার তাঁর কাছে ঘুষ দাবি করেছেন। প্রথমে ৬ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানালেও ঘুষ না দেওয়ায় উদ্ধার কাজে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তাঁদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন ম্যানেজার।
অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ম্যানেজার দিদারুল আলম বলেন, টাকাগুলো অ্যাপসের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে। অ্যাপসের লেনদেন প্রধান কার্যালয় সরাসরি তদারকি করে। তাই এই জালিয়াতিতে তাঁর বা শাখার কর্মকর্তাদের দায় নেই। বিষয়টি প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে ও তদন্ত দল শাখা পরিদর্শন করেছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ লেনদেনের যাবতীয় তথ্য ও জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন যারা তাদের সাথে এই অন্যায় করেছে তারা শীঘ্রই আইনের আওতায় আসবে। এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা এই ঘটনায় সহযোগিতা করছে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়।
এই ঘটনা ব্যাংকিং খাতে নিরাপত্তার প্রশ্নই তুলে ধরেছে। গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে আরও সচেতন হতে হবে। সরকারকেও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদে থাকে।
এই ঘটনার তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন যে তারা তাদের স্বজনদের হারানো অর্থ ফেরত পাবেন। এই ঘটনা ব্যাংকিং খাতে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সবাই আশা করছেন যে এই ঘটনার সমাধান শীঘ্রই পাওয়া যাবে।



