রাজশাহী নগরের দরগাপাড়া মৌজায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক বাড়ির নিচ থেকে একটি সুড়ঙ্গ বেরিয়েছে। এই বাড়িটি দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায় নির্মাণ করেছিলেন। বাড়িটির দুই পাশে দুটি একতলা ভবন এবং সামনে একটি নাগলিঙ্গম ফুলের গাছ রয়েছে। পেছনে একটি দোতলা ভবন রয়েছে।
বাড়িটি এখন সরকারি কাগজে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত। স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হওয়ায় প্রশাসন নিলামে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়। বাড়ি ভাঙতে গিয়ে নিচতলা থেকে বেরিয়ে এসেছে একটি সুড়ঙ্গ। সেখান থেকে পানি বের হচ্ছে।
স্থানীয় ইতিহাসবিদরা বাড়িটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য যাচাই না করেই ভাঙার জন্য নিলামে তুলে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।
বোয়ালিয়া ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দরগাপাড়া মৌজায় ৫২৪ খতিয়ানের এই জমির দাগ নম্বর ৪৭। শ্রেণি হিসেবে লেখা আছে, ‘সিভিল ডিভিশন অফিস’। মালিকের ঠিকানায় ‘দিঘাপতিয়া স্টেট, বলিহার, থানা– নাটোর’ লেখা আছে। ১৯৮১ সালে বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়।
কবি ও গবেষক তসিকুল ইসলাম জানান, রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি পড়ে ছিল। স্বাধীনতার পর ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানকে বাড়িটি ইজারা দেয় সরকার। তিনি বাড়িতে ‘মহিলা কুটিরশিল্প প্রতিষ্ঠান’ নামে একটি সংগঠন চালাতেন।
জনশ্রুতি রয়েছে, মহারানি হেমন্তকুমারী পুঠিয়া থেকে রাজশাহী শহরে এলে এই বাড়িতে থাকতেন। রাজশাহীর একটি কলেজের শিক্ষক আখতার বানু ছোটবেলা থেকেই এই বাড়িতে যাতায়াত করেছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকতেই সামনে পড়ে একটি নাগলিঙ্গম ফুলের গাছ। সেটি এখনো আছে।
রাজশাহীতে ঐতিহাসিক বাড়ির নিচ থেকে সুড়ঙ্গ বেরিয়ে আসায় স্থানীয়রা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তাঁরা জানতে চাইছেন, এই সুড়ঙ্গটি কবে থেকে এখানে ছিল এবং এর গুরুত্ব কী। এই সুড়ঙ্গটি রাজশাহীর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।



