বাংলাদেশ ও জার্মানি গতকাল ১৬০ মিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ঢাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রকল্পটির লক্ষ্য হল ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং পানীয় জলের টেকসই অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা।
এই চুক্তির অধীনে, ৭০ মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত অর্থায়ন এবং ৯০ মিলিয়ন ইউরোর মূল ঋণের সংশোধনী চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পটি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মোট খরচ প্রায় ১৬,০১৪.৮৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪,৫৩৬.১৭ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন, ১১,৪৪৮.৬৬ কোটি টাকা ঋণ এবং ৩০ কোটি টাকা ওয়াসার নিজস্ব তহবিল থেকে।
অতিরিক্ত ৭০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯৮৮ কোটি টাকা) মেঘনা নদীতে হারিয়ায় একটি কাঁচামাল নেওয়ার স্টেশন এবং পাম্পিং স্টেশন, ২৬ কিলোমিটার সংক্রমণ পাইপলাইন এবং ৫৪ কিলোমিটার প্রাথমিক বিতরণ নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহার করা হবে। নতুন অর্থায়নের ফলে, মূল ৯০ মিলিয়ন ইউরোর ঋণের বিতরণ সময়কাল ২০২৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
জার্মানি ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের একজন দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদার। কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩টি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে, যার মধ্যে ৬৪৭.৫০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ এবং ১৭০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান রয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির সচিব মোঃ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জার্মানির পক্ষে কেএফডব্লিউ ফ্রাঙ্কফুর্টের দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহুরে উন্নয়ন বিভাগের প্রধান কার্লা বার্কে এবং কেএফডব্লিউ ফ্রাঙ্কফুর্টের দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহুরে উন্নয়নের প্রধান পোর্টফোলিও ম্যানেজার স্টেফানি ক্লাপেনবাখ স্বাক্ষর করেছেন।
এই চুক্তি বাংলাদেশের পানি সরবরাহ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার জনগণের জন্য পানীয় জলের অ্যাক্সেস উন্নত হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।



