চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের পেছনের গ্রীনহাউস এলাকায় একটি গোপন মদ তৈরির কারখানা উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির একটি টিম অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মদ ও বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় প্রায় ৩০ লিটার সদ্য প্রস্তুত গরম মদ, ৫ লিটার ডেক্সি, ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত বোতলসহ মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও মদ বিক্রির হিসাব সংবলিত নোটবুকও জব্দ করা হয়েছে। আটক করা ব্যক্তিদের একজন সুমন চাকমা, যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিজকৃত বখতিয়ার ফকিরের জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করছিলেন।
সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লিজকৃত জমিতে অবৈধভাবে মদ ব্যবসা পরিচালনার ঘটনায় লিজ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনুমতিহীনভাবে গাছ কাটার অভিযোগেও সুমনকে আর্থিক জরিমানা করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, সুমন চাকমা শুধু মদ ব্যবসা নয়, দেশের জঙ্গল থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বন্য শুকর, হরিণ ও বন্য মুরগিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার করতেন এবং এর মাংস বিক্রি করতেন।
অভিযানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনস্পেক্টর মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পুলিশ দল সহায়তা করে। পরে থানা পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে। সুমন চাকমার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বন্যপ্রাণী হত্যা এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।



