পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ১৯৯৭ সালের এই দিনে। এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা। কিন্তু এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদী। তারা বলছে, এই চুক্তির অধিকাংশ ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এন্টিনা চাকমা বলেন, ‘চুক্তির অধিকাংশ ধারা এখনও অবাস্তবায়িত রয়েছে। এখনও এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আন্দোলন করতে হচ্ছে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা আর পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবেও এসেছে সমৃদ্ধি। কিন্তু এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়িদের অধিকার সংরক্ষণ করা হলেও বাঙালিদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এটাই পাহাড়ে শান্তি না ফেরার অন্যতম কারণ।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকারের রাঙ্গামাটি জেলার আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, ‘শান্তিচুক্তি পাহাড়ে বৈষম্য এবং বিভেদ বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়িদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বাড়িয়েছে। চুক্তির পর পাহাড়ে অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে।’
চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে ৭২টি ধারার ৬৯টি বাস্তবায়িত হয়েছে বলা হলেও জনসংহতি সমিতি বলছে ভিন্ন কথা। সংগঠনটির দাবি, সাধারণ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন এবং জেএসএস সদস্যসহ অভ্যন্তরীণ ও প্রত্যাগত উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেয়নি সরকার। আবার পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনও রয়েছে বন্ধ। ফলে সরকারের মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে সচল রাখায় এসব প্রতিষ্ঠান জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৬ বছর পরও এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদী। তারা বলছে, এই চুক্তির অধিকাংশ ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।



