বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে আলোর মিছিল ও প্রদীপ প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শিখা চিরন্তনে গিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত বিভিন্ন গণসঙ্গীত সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়েছে।
সেখানে মুক্তিযোদ্ধা মকবুল-এ-এলাহী মশগুল বলেন, নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ও লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই মাসেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে মহান বিজয় অর্থাৎ স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ। পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন দেশ, বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, মহান বিজয়ের ৫৪ বছর পরও এ দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের মত একটি মহান জনযুদ্ধের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে নতুন করে চক্রান্ত চলছে।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দেওয়ার সব অপচেষ্টা দেশপ্রেমিক জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনও সাম্প্রদায়িক বা মৌলবাদী রাষ্ট্র নয়। যতদিন পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এ দেশের প্রগতিশীল সব সংগঠন এবং দেশপ্রেমিক জনগণের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবির সাবেক সহকারি সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বক্তব্য দেন।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।



