বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান খুলনা নগরের ঐতিহাসিক শিববাড়ী মোড়ে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য এক বড় হুমকি।
জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া, দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন, গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে করাসহ পাঁচ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে ছলে-বলে-কৌশলে কেউ কেউ আমরা শুনতে পাই, বিভিন্ন জায়গায় বসে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন—জনগণ ভোট দিক বা না দিক ক্ষমতায় তাঁদের যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেলা শেষ, দিনও শেষ। সূর্যও ডুবে গেছে। বাংলাদেশে এটা হবে না, এটা আমরা হতে দেব না, ইনশা আল্লাহ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, একটা দেশকে সভ্য দেশ হতে হলে সেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হয়। কিছু দল ও ব্যক্তি বাংলাদেশকে দফায় দফায় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে বিশ্ব দরবারে অপমানিত করেছে। এদের সকলের অতীত রেকর্ড বাংলাদেশের জনগণের হাতে আছে।
শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখের বিষয়, সকল ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, বৈষম্য, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বিপ্লবের পরের দিন থেকে একটা গোষ্ঠী নিজেদের কপাল-কিসমত গড়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আজ চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সমাজজীবন অতিষ্ঠ-তটস্থ। ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—কেউ শান্তিতে নেই। আগের চেয়ে চাঁদার রেট বেড়ে গেছে বলে তারা সকলে বিষাক্ত নিশ্বাস ফেলে। তারা বলে, আগেও ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, কিন্তু কোনো ইসলামী দলের নামে চাঁদাবাজের তকমা জুড়ে দেওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব সময় দেশের জনগণের পাশে থাকবে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, দেশকে সংস্কার করার জন্য একসাথে কাজ করতে।



