বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর যত মানুষের মৃত্যু হয় তা করোনা মহামারিতে তিন বছরের মোট মৃতের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বেশি। দেশের ১৩ জন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এই তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণ তামাক। টোবাকো অ্যাটলাসের তথ্য মতে, তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ব্যয় ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (৪০ হাজার কোটি টাকা) দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, তামাক কোম্পানিগুলো রাজস্ব হ্রাসের ধুয়া তুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অথচ গত ২০ বছরে কর বাড়ানোর ফলে এই খাতে রাজস্ব ১৪ গুণ বেড়েছে।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় রাজস্ব আয় কখনোই মানুষের জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে আইন সংশোধন ও কার্যকর তামাক কর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তামাকজনিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতকে উন্নত করার জন্য এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের মানুষকে তামাকজনিত রোগের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তামাক সেবন ছেড়ে দেওয়া এবং তামাকজনিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
কি আপনি তামাকজনিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত?



