বাংলাদেশ জামায়াত-ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান খুলনা বিভাগীয় র্যালিতে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে কথা বলা মানে জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতার সময়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনেন। যারা ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে কথা বলেন, তারা মূলত শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করছেন।
ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও ১৯৭২ সালের সংবিধান সমর্থন করেননি। তিনি আশা করেন, যারা এই দুই নেতাকে ভালোবাসেন, তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন।
জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি ক্ষমতায় না থেকেও ক্ষমতার অহংকার প্রকাশ করছেন এবং আগামী নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেন, রাস্তায় পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা যায়, কিন্তু মনের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা যায় না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশটি দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়েছে – একটি হলো ১৯৭২ সালের প্রবক্তা বাকশাল মতাদর্শের অনুসারী এবং অপরটি হলো ২০২৪ সালের বিপ্লবী শক্তির অনুসারী।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, রক্তের সাগর পার হয়ে যে ফ্যাসিবাদ উৎখাত হয়েছে, তা আর কখনও বাংলার মাটিতে ফিরে আসবে না। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই চার্টারকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি গণভোট অনুষ্ঠানের দাবি জানান। তিনি অস্থায়ী সরকারকে সতর্ক করেন, গণভোট না হলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।
জামায়াত আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দমনের চেষ্টা করা হলেও দলটি এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, জামায়াত অত্যাচারিতদের বিজয়ের জন্য লড়াই করবে। তিনি যুবকদের আশ্বস্ত করেন, জামায়াত তাদের পক্ষে লড়াই করবে।
জামায়াত আমীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই বক্তব্য আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



