তাইওয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে তাদের রফতানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে চায়। বর্তমানে এই শুল্কের হার ২০%, কিন্তু তাইওয়ান এটিকে ১৫%-এ নামিয়ে আনতে চায়।
তাইওয়ানের সিনিয়র আধিকারিকরা সোমবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। তারা বলেন, তাইওয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে তাদের ‘তাইওয়ান মডেল’ প্রস্তাব করেছে। এই মডেলের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি ক্লাস্টার গড়ে তোলার প্রস্তাব।
তাইওয়ানের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেনি ইয়াং সংসদে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তারা শুল্কের হার ১৫%-এ নামিয়ে আনতে চায়। গত সপ্তাহে রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাইওয়ানের সাথে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে তাইওয়ানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তাইওয়ানের অর্থমন্ত্রী কুং মিং-হসিন বলেন, যদি টিএসএমসির কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সরকারি সাহায্য প্রয়োজন হয়, তাহলে তা নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
তাইওয়ানের অর্থমন্ত্রী এবং শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক কেউই চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সীমা সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে জেনি ইয়াং বলেন, সরকার এই বছরের শেষের দিকে চুক্তি স্বাক্ষর করার চেষ্টা করবে।
তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর রফতানি বর্তমানে ২০% শুল্কের আওতায় নয়। গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর আমদানির ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই শুল্কের আওতায় পড়বে না।
তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হলে উভয় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই চুক্তির মাধ্যমে তাইওয়ানের রফতানি বাড়বে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার জন্য উভয় দেশকে কয়েকটি বিষয়ে একমত হতে হবে। তাইওয়ানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। এছাড়াও, উভয় দেশকে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে যার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হলে এটি উভয় দেশের জন্য একটি সুবিশাল সুযোগ হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার জন্য উভয় দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে উভয় দেশের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া



