বাংলাদেশের সমুদ্রে একটি অভূতপূর্ব আবিষ্কার ঘটেছে। ইএএফ-ন্যানসেন প্রোগ্রামের জরিপে ৬৫টি নতুন প্রজাতির প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রজাতি সম্ভবত বিশ্বের বুকেই প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে।
এই জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের পুরো সমুদ্রসীমা জুড়ে এই জরিপ চালানো হয়। গবেষকরা সমুদ্রবিজ্ঞান-সংক্রান্ত পরিমাপ, ফিশারিজ ট্রলিং, প্ল্যাঙ্কটন ও জেলিফিশ গবেষণা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের নমুনা সংগ্রহের কাজ করেছেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ইএএফ-ন্যানসেন লেগ-২.৫-এর কো-ক্রুজ লিডার মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, এবারের জরিপে ৭৩০ মিটার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের তলদেশ অনুসন্ধান করা হয়েছে, যা আগে কখনও করা হয়নি। পূর্বে অনাবিষ্কৃত অঞ্চলগুলোতে জাল ফেলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই গবেষণা কার্যক্রমে ৪০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। এতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নরওয়ে ও এফএওর সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। তারা ব্যাপকভাবে জৈবিক নমুনা সংগ্রহ, প্রজাতির নথিকরণ ও লার্ভা শনাক্তকরণের কাজ করেছেন।
শুধু প্ল্যাঙ্কটন নমুনার জন্যই ৩২টি স্টেশন বা স্থানে জরিপ চালানো হয়, যেখান থেকে ৯ হাজার ৭৯৪টি মাছের লার্ভা (টুনা মাছের লার্ভাসহ) সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসাথে গবেষক দলটি ৪১৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি ট্রল স্টেশনেই জেলিফিশের উপস্থিতি পাওয়া গেছে; এই জরিপেই প্রথমবারের মতো জেলিফিশের বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য ম্যাপ করা হয়েছে।
এই আবিষ্কার বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষণায় একটি বড় মাইলফলক। এটি আমাদের সমুদ্রের গভীরে আরও অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে তা প্রমাণ করে। এই গবেষণা আমাদের সমুদ্রের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে।
সুতরাং, আমরা কি আমাদের সমুদ্রের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি? আমরা কি আমাদের সমুদ্রের গভীরে আরও অনেক রহস্য আবিষ্কার করতে পারি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের আরও গবেষণা ও অনুসন্ধান করতে হবে।



