দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, দুর্যোগে জনগণের জান-মালের ক্ষতি কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা বলেন, দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর ক্ষতি পূরণে ব্যয় করার চেয়ে দুর্যোগ সহিষ্ণুতা গড়ে তোলার জন্য আগাম বিনিয়োগ করা অধিক কার্যকর, টেকসই ও জনকল্যাণমূলক। তিনি বলেন, সবার জন্য প্রাথমিক পূর্বাভাস রোডম্যাপ জনস্বার্থ ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ফারুক-ই-আজম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ দুর্যোগের সাথে নিত্য বসবাস করে এবং অকুতোভয়ে দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। প্রত্যেক মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, তাই জনগণের জান-মালের ক্ষতি কমানোই সরকারের লক্ষ্য। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এক রাতের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো ১৯৭০ বা ১৯৯১ সালের দুর্যোগের পরও দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমরা যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি। জাতীয়ভাবে গবেষণার প্রতি আমাদের মনোনিবেশ আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে সৌভাগ্যের বিষয় যে স্যাটেলাইটভিত্তিক ওয়েদার মডেল, ডপলার রাডার, ফ্ল্যাশ-ফ্লাড মডেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পূর্বাভাস, মোবাইল ভিত্তিক সতর্কবার্তা সবকিছু এখন আমাদের হাতে রয়েছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির মো. আশরাফ আলম।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের এই বক্তব্য দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপ দেশের দুর্যোগ সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি এবং জনগণের জান-মালের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



