বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটির ঋণ পরিস্থিতি। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশ ১২১ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫৮ কোটি ডলার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে পাওয়া গেছে। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সাড়ে এক কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অন্যান্য দাতা সংস্থা ও দেশগুলো এই চার মাসে সাড়ে ৬১ কোটি ডলার দেবে বলে জানিয়েছে।
এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সাড়ে ২৫ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। এই বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।
চলতি অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া। দেশটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৪০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এরপরে আছে বিশ্বব্যাংক। এই সংস্থা দিয়েছে ৪০ কোটি ৫২ লাখ ডলার। আর এডিবি দিয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ১৯ কোটি ডলার ও ৮ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৮ কোটি ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন অনুসারে, গত চার মাসে সব মিলিয়ে ১৬৬ কোটি ডলার ছাড় করেছে দাতা সংস্থা ও দেশগুলো। অন্যদিকে আগের নেওয়ার ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে খরচ হয়েছে ১৫৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১০২ কোটি ডলার আসল ও সুদ ৫৬ কোটি ডলার। দিন দিন ঋণ পরিশোধের পাল্লা ভারী হচ্ছে।
বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঋণ ছাড় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঋণ পরিশোধের পাল্লা ভারী হচ্ছে বলে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সরকারকে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঋণ ছাড় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে ঋণ পরিশোধের পাল্লা ভারী হচ্ছে বলে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সরকারকে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



