দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ব্যবসা পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে ব্যবসায়ীকরণ করা হয়েছে এবং ব্যবসাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। রাজনীতি ও নির্বাচনী অঙ্গনের এই অস্বচ্ছতা ও দুর্বৃত্তায়ন দূর না করলে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, বরং এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি পথ মাত্র। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা হলো নির্বাচনী অঙ্গনের অস্বচ্ছতা। রাজনৈতিক অঙ্গনও অস্বচ্ছ এবং এখানে ব্যাপক দুর্বৃত্তায়ন রয়েছে।
সুজন সম্পাদক বলেছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় গিয়েছিলেন এবং কোনো যুগান্তকারী আবিষ্কার ছাড়াই কেবল পুরোনো নিয়ম ব্যবহার করেই স্বৈরাচার হয়ে ওঠেন। একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান, দলীয় প্রধান এবং সংসদ নেতা হওয়ার কারণে তিনি সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন এবং তার কোনো জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়েনি।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরে বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আমরা ক্ষমতার এই এককেন্দ্রীকরণ বন্ধে সীমারেখা টেনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পদে ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না এবং একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান হতে পারবেন না।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও এটি মূলত একটি প্যাকেজ। এর মূল কথা হলো জনগণ সংস্কারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে। সংস্কার চাইলে ‘হ্যাঁ’ এবং না চাইলে ‘না’ ভোট দিতে হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধানের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মন্তব্যের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট কেমন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
এদিকে, সরকার ও বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। সরকারি মহল থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধানের মন্তব্য অবাঞ্ছিত। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছে।



