খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরের দূরছড়ি গ্রামে একজন তরুণ কৃষক পেঁপে চাষে সফলতা পাচ্ছেন। হলামাংসিং মারমা নামের এই তরুণ কৃষক প্রকৌশলে ডিপ্লোমা করেছেন এবং চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ গ্রামে কৃষিকাজ করাকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
হলামাংসিং মারমা এলাকায় ১০ একরের পেঁপেবাগান করেছেন এবং সাথি ফসল হিসেবে তরমুজ, মুলা, মরিচ, করলাসহ নানা শাকসবজি চাষাবাদ করেন। তিনি গ্রামের অন্য কৃষকদেরও পেঁপে চাষে উৎসাহিত করেছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন।
হলামাংসিং মারমা ২০২০ সালে করোনা মহামারির প্রকোপের সময়টাতেই এলাকায় ফলদ বাগান করা শুরু করেন। তিনি নিজের জমির পাশাপাশি বর্গা জমি নিয়ে ফলদ বাগান করেছেন। পেঁপে ছাড়াও মাল্টা, ড্রাগন, লেবু, লটকন, আমের বাগান রয়েছে তাঁর।
হলামাংসিং মারমার পেঁপে চাষের সফলতা গ্রামের অন্য কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। গ্রামের ৫৩টি পরিবারের মধ্যে ৪২টি পরিবারই এখন পেঁপে চাষ করছে। হলামাংসিং মারমা চাষিদের বিনা মূল্যে পেঁপের চারা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।
হলামাংসিং মারমা তাঁর পেঁপে ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে ভালো দাম পাওয়া যায় না। তাই ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি। ঢাকার কিছু সুপারশপও আমাদের কাছ থেকে পেঁপে কিনে নেয়।’
গ্রামে পেঁপেচাষিদের একজন মংসানাই মারমা। তিনি পেশায় জুমচাষি। মংসানাই বলেন, ‘আগে পরিবারের চাহিদা মেটাতে ঘরের পাশের জমিতে দু-একটি পেঁপের চারা ছিল তাঁর। আড়াই বছর আগে থেকে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ শুরু করেছেন।’
হলামাংসিং মারমার অনুপ্রেরণায় মংসানাই মারমা তাঁর কাছ থেকে চারা নিয়ে বাড়ির পাশের পাহাড়ি ঢালু জমিতে দেড় হাজার পেঁপেগাছ লাগিয়েছেন। পেঁপে বিক্রির পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে তরমুজ, মুলা, মরিচ, করলাসহ নানা শাকসবজি চাষাবাদ করেন।
হলামাংসিং মারমার পেঁপে চাষের সফলতা গ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গ্রামের কৃষকরা এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং তাদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। হলামাংসিং মারমার উদ্যোগ গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
হলামাংসিং মারমা বলেন, ‘গ্রামে পেঁপে চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আমি গ্রামের কৃষকদের পেঁপে চাষে উৎসাহিত করছি এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছি।’
গ্রামের কৃষকরা এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং তাদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। হলামাংসিং মারমার উদ্যোগ গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।



