সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, অনলাইনে ৫৯ শতাংশ নারী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেছেন, সাইবার জগতে নারীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘১৬ দিনব্যাপী লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ পক্ষ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সাইবার সহিংসতা বা অন্য কোনো অনিরাপদ পরিস্থিতির শিকার হলে মন্ত্রণালয়কে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমের কাছে পৌঁছে যাবে এবং আইনি সহায়তা দেবে।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের জগতও ব্যাপক হয়েছে, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ অন্যের মর্যাদার ওপর আঘাত হানতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশে সাইবার অপরাধ দমনে অনেক ভালো আইন থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ বলেন, আরও শক্তিশালী আইন, সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ডিজিটাল সহিংসতাকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, ডিজিটাল সহিংসতা কেবল নারীর সমস্যা নয়, এটি সবার সমস্যা। সরকার, সংগঠন এবং নারীদের একসঙ্গে লড়াই করে এমন একটি পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে প্রযুক্তি সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাইবার জগতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এই অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের অংশীদারিত্বে আয়োজিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারী ও কন্যাদের প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই’।
সরকার সাইবার সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাইবার জগতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো সাইবার সহিংসতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সাইবার সহিংসতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটি মোকাবিলায় সকল স্টেকহোল্ডারদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার, সংগঠন এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে সাইবার সহিংসতা মোকাবিলায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।



