লক্ষ্মীপুর ও ফেনী সদর হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছেন কর্মরতরা। এই কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। এতে ফার্মেসি ও ল্যাবরেটরির সামনে দেখা গেছে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ লাইন।
আন্দোলনকারীদের জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে চলতি নভেম্বরের ২৫ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ৯৬ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেয় ‘মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’। ওই সময়ের মধ্যে তা কার্যকর না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
এতেও দাবি আদায় না হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা কর্মবিরতি পালন করা হবে। আন্দোলনরত টেকনোলজিস্টরা বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দেশের সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল, স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে রোগ নির্ণয় ও ওষুধ ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
এখনো তাঁরা ন্যায্য সম্মানী ও পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা দেখা যাচ্ছে। এবার তাঁদের পদমর্যাদা একাদশ গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ করার জোর দাবি জানান তারা।
লক্ষ্মীপুর হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট জনেষ বলেন, ‘যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী ৩ ডিসেম্বর চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালিত হবে। তারপরও না মানলে কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এদিকে সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভবানীগঞ্জ এলাকার দিনমজুর মো. হারুন বলেন, ‘হাসপাতালের লোকজন কর্মবিরতি পালন করলে, আমরা চিকিৎসা নিব কীভাবে? দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি।’
ফার্মেসির সামনে ওষুধের জন্য অপেক্ষায় থাকা বিলকিস আক্তার বলেন, ‘বাড়িতে বাচ্চা রেখে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ওষুধের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ফার্মাসিস্টরা তাঁদের দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি করছেন, আর আমরা আছি ভোগান্তিতে।’
লক্ষ্মীপুরে কর্মবিরতিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। আমরা চাই আমাদের পদমর্যাদা উন্নীত করা হোক।’
এই কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের রোগীরা যে দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, কর্মবিরতি করা উচিত নয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কর্মবিরতি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হবে না এবং কর্মীদের দাবিও মেটানো সম্ভব হবে।
এই বিষয়ে সর



