পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ তার মেয়াদের শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছে। কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার (আজ) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের তদন্ত সম্পর্কে জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের কাছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তার প্রতিবেদন জমা দিতে পারে। এদিকে আগামী সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গ জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছে।
গত বছর ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তদন্তে সাত সদস্যের স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমানকে সভাপতি করে এই কমিশন গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন—সামরিক বাহিনীর দুজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, সিভিল সার্ভিসের একজন ও পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। পরে কয়েকবার এই কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। আজ এই কমিশনের বর্ধিত মেয়াদের শেষ দিন।
এর আগে গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানিয়েছিল, বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা ও আলামত ধ্বংস করার প্রয়াস প্রতীয়মান হয়েছে। এর পেছনে দায়ী ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই কমিশন গঠনের আগে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পিলখানা হত্যাযজ্ঞে আদালতে দুটি মামলা চলমান। তাই কমিশন গঠন আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ জন্য কমিশন গঠন হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নেতিবাচক ঘোষণায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ এবং আইন উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানায়।



