বাগেরহাটের একমাত্র সরকারি মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রত্যাশিত সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। অবকাঠামোর অবনতি, ডাক্তার ও কর্মীদের অভাব এবং বহু শূন্য পদ রয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মা ও নবজাতক তাদের প্রয়োজনীয় যত্ন পাচ্ছে না।
এই কেন্দ্রটি ১৯৮১ সালে বাগেরহাট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা রোডে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রায় চার দশক ধরে এটি উল্লেখযোগ্য আধুনিকায়ন করা হয়নি। জেলার একমাত্র মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও, এটি পুরানো সরঞ্জাম, ভঙ্গুর ভবন এবং প্রয়োজনের চেয়ে কম কর্মী নিয়ে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক একটি সকালবেলায় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, দূরবর্তী গ্রামগুলি থেকে গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অনেক মানুষ এসেছে, কিন্তু কোনো চিকিৎসা পাওয়ার পর তারা ফিরে যাচ্ছে। কাছুয়া উপজেলার আফরা গ্রামের মেহেদি হাসান তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু কোনো ডাক্তার না থাকায় তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল। কাছুয়া উপজেলার হরিখালী গ্রামের কাকলি বেগমও তার শিশুর টিকা কার্ড নিতে এসেছিলেন, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় তাকেও ফিরে যেতে হয়েছিল।
স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কাছুয়া উপজেলার সাংগদিয়া গ্রামের পবিত্র দাস মিত্র বলেন, এখানে একসময় ভালো ডাক্তার ছিলেন এবং আমরা যথাযথ চিকিৎসা পেতাম। কিন্তু এখন একজন ডাক্তারকেও খুঁজে পাওয়া যায় না।
সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিকেল অফিসার নাজমা আক্তার বলেন, ভবনটি নিজেই কর্মী ও রোগীদের জন্য বিপদজনক। তিনি বলেন, আমরা ঝুঁকির মধ্যেই সেবা প্রদান করছি। যদি ডাক্তার ও কর্মীদের অভাব দূর করা যায়, তাহলে আমরা চিকিৎসার মান উন্নত করতে পারব।
কেন্দ্রটিতে মাত্র আটটি পদের অনুমোদন রয়েছে – দুজন ডাক্তার, একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, দুজন নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট। এই অভাবের কারণে, হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য, সরকারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ডাক্তার ও কর্মীদের অভাব দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরঞ্জাম আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তাহলেই এই কেন্দ্রটি তার প্রত্যাশিত সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে।



