23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যবরিশালের লাহারহাটে নারী রিকশাচালক

বরিশালের লাহারহাটে নারী রিকশাচালক

বরিশাল শহরের লঞ্চঘাটের পাশেই একটি খেয়াঘাট অবস্থিত। এই খেয়াঘাটটি থেকে কীর্তনখোলার ওপারে যাত্রী পারাপার করা হয়। ভাড়া পাঁচ টাকা। এক নৌকায় ১৪ জনের বেশি নেওয়া হয় না।

২০ নভেম্বর সকালে বরিশাল থেকে ভোলা যাওয়ার জন্য খেয়াঘাটটিতে গেলাম। উদ্দেশ্য কীর্তনখোলার ওপারে চরকাউয়া যাওয়া। সেখান থেকে সড়কপথে লাহারহাট যাব। তারপর লঞ্চে ভোলা। চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে বাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা লাহারহাট যায়।

একটি অটোরিকশা খুঁজছিলাম। এমন সময় দেখলাম এক নারী রিকশাচালক একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে আসছেন। কোনো কোনো শহরে এখন একজন-দুজন নারী রিকশাচালক দেখা যায়। কিন্তু বরিশালে আমি দেখিনি।

নারীরা চাকরি ও ব্যবসাকে ভালোভাবেই তাঁদের পেশা হিসেবে নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা পুরুষকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে একান্ত বাধ্য না হলে কোনো নারীকে রিকশা চালাতে দেখা যায় না।

কীর্তনখোলার ওপারে একজন নারী রিকশাচালক দেখে কৌতূহল বাড়ল। ইচ্ছে হলো, তাঁর সঙ্গে কথা বলি। মনে মনে তাঁকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখার পরিকল্পনাও সাজিয়ে ফেললাম।

কিন্তু ততক্ষণে নারী রিকশাচালক আমার পাশ দিয়ে রিকশা চালিয়ে অনেক দূরে চলে গেছেন। তাঁকে আর দেখা গেল না। পরিকল্পনাটি বাদ দিতে হলো।

বরিশাল খেয়াঘাট থেকে লাহারহাট কখনো যাইনি। তাই ভাড়া কত, কোন পরিবহনে কত সময় লাগবে, কোন পরিবহন কতটা নিরাপদ—ধারণা ছিল না। অটোরিকশা খুঁজছিলাম। কিন্তু খেয়াঘাট থেকে অনেকটা দূর হেঁটে যাওয়ার পরও অটোরিকশার খোঁজ পাচ্ছিলাম না।

এক প্রবীণ দোকানদারের কাছে জানতে চাইলাম অটোরিকশা কোথায় পাব? তিনি বললেন, ‘একটু খাড়ান। মুই ঠিক কইরা দিই।’ প্রবীণ দোকানদারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় এলেন সেই নারী রিকশাচালক।

নিজেই আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন, ‘যাইবেন?’ প্রবীণ দোকানদার আমার পক্ষ থেকে দর-কষাকষি শুরু করলেন। আমি মনে মনে ঠিক করে রেখেছি, ভাড়া যতই হোক, এই রিকশায় যাব।

যা-ই হোক, নারী রিকশাচালক ভাড়া চাইলেন ১৫০ টাকা। খেয়াঘাট থেকে লাহারহাট লঞ্চঘাটের দূরত্ব ২২ কিলোমিটারের মতো। এতটা পথে ভাড়া বেশি মনে হলো না। কিন্তু প্রবীণ দোকানদার আমার পক্ষ হয়ে ভাড়া ১০০ টাকার বেশি বলছেন না।

পরে ১২০ টাকায় চূড়ান্ত হলো। উঠে বসলাম নারী রিকশাচালকের রিকশায়। রিকশাটি পুরোনো, সেটা দেখলেই বোঝা যায়। গতিও খুব একটা উঠছে না। হয়তো মোটরের ক্ষমতা কমে গেছে। ধরে নিলাম অনেক সময় লাগবে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি যে নারীরা পুরুষদের মতোই কর্মশক্তিতে অবদান রাখতে পারে। তাঁরা বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছেন। এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

এই গল্পটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে নারীরা কেবল ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা বাইরের জগতেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি ভালো লক্ষণ।

আমরা আশা করি যে এই গল্পটি আপনাদের উপকারী হবে। আমরা চাই আপনারা এই গল্পটি পড়ে অনুপ্রাণিত হবেন এবং নারীদের অধিকারের জন্য কাজ করবেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments