চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এক বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনাটি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ভারতের সীমান্ত এলাকায় ঘটে। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষক বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম শহিদুল ইসলাম শহিদ, যিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার জিবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
শহিদুলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শহিদুল সকালে কাজের জন্য বের হয়েছিলেন এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিছুক্ষণ পরে, তিনি আবার সীমান্ত এলাকায় গেছেন এবং আর ফিরে আসেননি। শহিদুলের স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানিয়েছেন, মাগরিবের নামাজের সময় তিনি শুনতে পেয়েছেন যে বিএসএফ তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তার মরদেহ নিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শহিদুল একজন দিনমজুর ছিলেন এবং স্থানীয় কৃষকদের জমিতে কাজ করতেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিএসএফ সন্ধ্যার নামাজের পরে শহিদুলকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তার মরদেহ নিয়ে গেছে।
বিজিবির ৫৮ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানিয়েছেন, বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করার পরে তারা জানতে পেরেছেন যে শহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে বিএসএফ জানিয়েছিল যে শহিদুলকে গুলি করে আহত করা হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট সুজিত কুমার জানিয়েছেন যে শহিদুল মারা গেছেন। শহিদুলের মরদেহ ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ময়না তদন্তের পরে বিএসএফ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে মরদেহ হস্তান্তর করবে।
এই ঘটনার পরে, স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনার পরে, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য দাবি জানিয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করবে এবং দোষীদের শাস্তি দেবে।



